মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল–এর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন পেদ্রো সানচেজ। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান বলে জানিয়েছে এএফপি।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানসহ সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ রয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল আন্দালুসিয়ায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে সানচেজ বলেন, আগামী বৈঠকে ইইউর কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি থেকে সরে আসার প্রস্তাব দেবে স্পেন। তার ভাষ্য, “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী কোনো রাষ্ট্র ইইউর অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়।”
এদিকে সানচেজের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সাআর। তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ আচরণ’-এর অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ইইউ ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। তবে গাজা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া। ২০২৪ সালে তারা চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জেরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এতে বহু বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সেই সময় থেকেই ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে স্পেন।
ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে স্পেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধসহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মাদ্রিদ সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক কাজে ব্যবহৃত জাহাজকে স্পেনের বন্দরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং আকাশসীমা ব্যবহার করে অস্ত্র পরিবহন বন্ধ করা।
আগামী ২১ এপ্রিল লুক্সেমবার্গ-এ অনুষ্ঠিতব্য ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলে জানা গেছে।