ঢাকাই চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রেশার কুকার। ফরিদুর রেজা সাগর-এর প্রযোজনায় এবং রায়হান রাফী-এর পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটি নগরজীবনে নারীর বহুমাত্রিক সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক শক্তিশালী সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।
হাইপারলিংক কাঠামোর মাধ্যমে চারজন নারীর ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম, মধ্যবিত্ত সমাজের আর্থিক টানাপোড়েন এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অন্ধকার দিকগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। ‘প্রেশার কুকার’ নামটি প্রতীকীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক নগরজীবনের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক চাপের রূপক হিসেবে।
চিত্রনাট্য, সংলাপ ও নির্মাণশৈলীতে রায়হান রাফীর দক্ষতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকা শহরকে এখানে শুধু পটভূমি নয়, বরং এক জীবন্ত চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংলাপে উঠে এসেছে বাস্তব জীবনের তীক্ষ্ণতা ও নারীদের চাপা আবেগের বহিঃপ্রকাশ।
অভিনয়ে রেশমা চরিত্রে এক সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি এবং মিলার চরিত্রে বুবলী উচ্চমধ্যবিত্ত নারীর ত্যাগ ও মানসিক দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন। পাশাপাশি স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত আধুনিক কর্মজীবী নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
যদিও সিনেমাটিতে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সংলাপ ও দৃশ্য রয়েছে, তবু তা কাহিনির প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ‘প্রেশার কুকার’ সমসাময়িক সমাজবাস্তবতা ও নারীর সংগ্রামকে তুলে ধরায় দর্শক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।