ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫ দিনের চলমান যুদ্ধে মানুষ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছ।
বুধবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত ন্যাটোর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো সময়মতো সেটি নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য কোথায় ছিল, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলেও জানানো হয়।
সব পক্ষকে সংঘাত বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঙ্কারা তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিকূল পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।
রয়টার্স বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
ফোনালাপের সময়, সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে বলে আরাঘচিকে জানান ফিদান।
এদিকে ন্যাটো মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট এক বিবৃতিতে তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, জোট তার সব সদস্যের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে, যার মধ্যে তুরস্কও রয়েছে। আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা অবস্থান শক্ত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তুরস্কের ইনজিরলিক বিমানঘাঁটি বিদেশি সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য পরিচিত, প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের জন্য। ঘাঁটিটি তুর্কি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এটি যৌথ তুর্কি-যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটি হিসেবে পরিচালিত হয়। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন অভিযানে এবং পরবর্তীতে ইরাক ও আফগানিস্তানে অভিযানের সময় এটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও আকাশ সহায়তা কেন্দ্র ছিল। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণে ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি তুরস্ক, তবে ২০১৪ সাল থেকে আইএসআইএলবিরোধী অভিযানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।