মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্কে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফোরাম। এতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন।
ফোরামটি ‘আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরাম’ নামে আয়োজিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধবিরতির পর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “মতপার্থক্য যতই গভীর হোক, আমরা যেন আবারও শব্দের জায়গায় অস্ত্রকে বসতে না দিই। শান্তির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।”
ফোরামের ফাঁকে শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকের সময় ইরান হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেয় বলে জানা গেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যায়।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাইছে পাকিস্তান। সম্প্রতি দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক বিরল সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করেছিল। যদিও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী বৈঠক ইসলামাবাদে হতে পারে।
ফোরামে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কাতারের আমিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
এদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ফোরামে আলোচনায় হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গও উঠে আসে। এরদোয়ান বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রবেশাধিকার সীমিত করা উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি।
সম্মেলনে ১৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও রয়েছেন।
অন্যদিকে, সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় ফোরামে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, ইসরাইল যদি দখল করা অঞ্চল থেকে সরে আসে, তবে গোলান মালভূমি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরাইল জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করে, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।