ক্যারিবীয় সাগর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়ার পর ভারত মহাসাগরে একটি ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত’ তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন এ তথ্য জানিয়েছে।
পেন্টাগনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘অ্যাকুইলা টু’ নামের ট্যাংকারটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে জাহাজটি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কিনা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাচারের জন্য ভুয়া পতাকাবাহী ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকার ব্যবহার করে আসছে। অ্যাকুইলা ২ পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার, যার ওপর অবৈধ রুশ তেল পরিবহনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ট্যাংকার ট্র্যাকার ডট কমের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, অ্যাকুইলা টু ছিল অন্তত ১৬টি ট্যাংকারের একটি, যেগুলো গত মাসে ভেনেজুয়েলার উপকূল ত্যাগ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এসব ট্যাংকারের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট চিত্র ও ভূপৃষ্ঠের ছবি ব্যবহার করে জাহাজটির চলাচল নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার জাহাজটি থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এতে কোনো অপরিশোধিত তেলের কার্গো নেই। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত ঠিকানা হংকংয়ে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, গত এক বছরে দীর্ঘ সময় ধরে এটি রেডিও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করেছে। সাধারণত পাচারকারীরা অবস্থান গোপন করতে ব্যবহার করে এই কৌশল।
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা তদারককারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এক ইমেইলে জানায়, পেন্টাগনের ঘোষণার বাইরে তাদের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অ্যাকুইলা টু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর কোয়ারেন্টাইন অমান্য করছিল। জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করে এবং আমরা সেটির পিছু নিই।’
তবে ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত সাতটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।