একসময় বলিউডের পর্দা কাঁপানো নাম মমতা কুলকার্নি। নব্বইয়ের দশকে সৌন্দর্য, গ্ল্যামার আর অভিনয়- সব মিলিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মধ্যগগনেই হঠাৎ হারিয়ে যান আলোচনার বাইরে।
২০১৫ সালে আলোচিত এক মাদক পাচার মামলায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। প্রায় ২০০০ কোটি টাকার সেই মামলায় তাঁর স্বামী ভিকি গোস্বামী-এর সঙ্গে তাকেও অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর প্রায় নয় বছর পর অবশেষে এই মামলা থেকে খালাস পান মমতা। তবে ততদিনে গ্ল্যামারের সেই উজ্জ্বল উপস্থিতি অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
একই রকম ভাগ্যের ছোঁয়া দেখা যায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী প্রজ্ঞা মার্টিন-এর জীবনেও। অল্প বয়সেই অভিনয়ে যাত্রা শুরু তাঁর। মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলাল অভিনীত সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড-এ ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। যদিও ছবিটি বড় সাফল্য পায়নি, তবু প্রজ্ঞা নজরে আসেন।
পরবর্তীতে উস্তাদ হোটেল-এ দুলকার সালমান ও নিত্যা মেনন-এর সঙ্গে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ারে বড় বাঁক আসে তামিল হরর সিনেমা পিসাসু-এর মাধ্যমে, যা তাঁকে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করে।
কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথেই মাদক-সংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে থমকে যায় তাঁর পথচলা। পরে সেই মামলা থেকে মুক্তি পেলেও, হারানো গতি ফিরে পেতে নতুন করে লড়াই শুরু করতে হয় তাঁকে।
গ্ল্যামারের দুনিয়ায় সাফল্য যেমন দ্রুত আসে, তেমনি বিতর্কও মুহূর্তেই সবকিছু থামিয়ে দিতে পারে। মমতা কুলকার্নি ও প্রজ্ঞা মার্টিন- এই দুই অভিনেত্রীর জীবন যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।