তিনি ৩৯ ছুঁয়েছেন। বয়সের হিসাব বলছে, ক্যারিয়ারের একদম গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হয়তো আলবিসেলেস্তে জার্সিতে তার ‘লাস্ট ড্যান্স’। তবে মেসির বিদায়ের হিসাব কষতে রাজি নন রদ্রিগো ডি পল। বরং আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের আহ্বান, বিদায়ের দিন গোনার বদলে ফুটবলপ্রেমীরা যেন মেসির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন।
মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ডি পল বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি দিন লিও মেসিকে উপভোগ করা। শুধু আমি নই, এই মুহূর্তে প্রতিটি আর্জেন্টাইনের সেটাই করা উচিত। আমরা সাধারণত কোনো কিছু হারানোর পরই তার মূল্য বেশি বুঝি। কিন্তু এখন সেই শূন্যতার কথা ভাবার সময় নয়। তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। এই সময়টুকু উপভোগ করতে হবে।’
মাঠে আগলে রাখার জন্য সমর্থকদের কাছে ডি পল পরিচিত ‘মেসির বডিগার্ড’ নামে। গত বছর আতলেতিকো মাদ্রিদ ছেড়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাব ফুটবলেও মেসির সতীর্থ হয়েছেন তিনি। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব এখন আলোচনার বিষয়। মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ডি পল বলেন, ‘লিওনেল মেসির একজন ভালো বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের। বন্ধুত্ব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তার সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি, এটা আমাকে সত্যিই গর্বিত করে।’
আর্জেন্টিনা ভেবেছিল শেষ বত্রিশে হয়তো উরুগুয়ে বা স্পেনের মতো শক্তিশালী কোনো দলের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে নকআউটে উঠে এসেছে আফ্রিকার কেপ ভার্দে। তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না ডি পল। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম বড় কোনো ফুটবল পরাশক্তির বিপক্ষে খেলতে হবে। কিন্তু কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে দারুণ খেলেছে। তারা এই জায়গায় এসেছে নিজেদের যোগ্যতায়। তাই আমাদের শতভাগ মনোযোগ নিয়েই মাঠে নামতে হবে।’
নকআউট পর্বের চাপ নিয়েও কথা বলেছেন এই মিডফিল্ডার, ‘আমরা এর আগে অনেক নকআউট ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। অভিজ্ঞতা অবশ্যই সাহায্য করে, তবে নকআউট ম্যাচের আবেগ ও চাপকে সবসময়ই সম্মান করতে হয়।’