সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে মিলবে না ই-রিকশার নিবন্ধন

ঢাকাকে ৮ জোনে ভাগ করে আলাদা রঙের ই-রিকশা, থাকবে জিও-ফেন্সিং।ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধীনে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এ জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না; একই সঙ্গে পুরোনো নিবন্ধনও নবায়ন করা হবে না।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে। বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর হওয়ার পর এ কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়সহ সব জায়গায় ই-রিকশা নিবন্ধনের এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি জোনে আলাদা রঙের ই-রিকশা চলাচল করবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না।

এ জন্য ই-রিকশাগুলোকে জিও-ফেন্সিংয়ের আওতায় আনা হবে। নির্ধারিত জোনের বাইরে কোনো ই-রিকশা গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানা করা হবে।

সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকারের চলমান কার্যক্রম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস সময় খুবই কম। তবে খাল, লেক ও রাস্তা নিয়ে কাজ চলছে। নিজেদের কার্যক্রমে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলেও অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেন তিনি।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সরকার পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। তার ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাজ চালানো কঠিন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে এলে সেবার মান ও কাজের গতি আরও বাড়বে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব নির্বাচনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনীতিতে সংঘাতের সংস্কৃতি বন্ধ করে সমঝোতা ও সমন্বয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে

১

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

২

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেবে কমিশন: ইসি সচিব

৩

স্পিকারের সঙ্গে মিষ্টির সাক্ষাৎ, পদত্যাগের প্রশ্নে বললেন ‘বিএনপির ডিসিশন যেটা হবে, সেটা হবে’

৪

৪৯তম বিসিএস • বাদপড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার, রাজনৈতিক বৈষম্য হবে না

৫

অনুমোদিত স্থান ছাড়া সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক-মামলা

৬

ফেনীতে ১৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

৭

হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, মহাসড়কে আটকা শতাধিক যানবাহন

৮

পদত্যাগপত্র জমা দিতে স্পিকারের কাছে যাচ্ছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

৯

হাসপাতালেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক, ময়লা-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা

১০

‘বিএনপি গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আন্তরিক নয়’

১১

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১২