আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব

গাজীপুর থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বাস ছেড়েছি। টাঙ্গাইলে আসছি পরদিন সকাল ৯টায়। ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় সময় লাগছে ১৪ ঘণ্টা। টাঙ্গাইল এসেও দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব।' ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরগামী রাব্বি পরিবহনের সুপারভাইজার আব্দুল মালেক।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৃষ্টি ও যমুনা সেতুর ওপর একাধিক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এ যানজট সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যায়।

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত তিনটার পর থেকে অতিবৃষ্টির মধ্যে যমুনা সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল হয় ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরাতে সময় লাগায় টোলপ্লাজা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে যান চলাচল শুরু হলেও ধীরগতির কারণে যানজট বাড়তে থাকে।

সকাল ৮টার পর থেকে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হলেও যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগরজলফৈই, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া হয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীম হোসেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১২টায় ডেমরা থেকে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। বুধবার সকাল ১১টায়ও তিনি টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় আটকে ছিলেন। তিনি বলেন, '১১ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে পেরেছি। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে স্ত্রী-সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।'

বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নরসিংদীর পুবাইল থেকে বাস ছেড়েছি। এখন বুধবার সকাল ১১টা। ১৮ ঘণ্টায় মাত্র ১০০ কিলোমিটার পথ এসেছি। এ অবস্থা থাকলে রংপুর যেতে কাল সকাল হয়ে যাবে। ঈদ বাসেই করতে হবে।'

বুধবার দুপুরেও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গাতি কমে গেছে। 

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, 'সেতুতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ রয়েছে। দুই প্রান্তে ১৮টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি বুথ রাখা হয়েছে।'

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, 'অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সেতুর ওপর দুর্ঘটনা এবং বৃষ্টির কারণে যান চলাচলের গতি কমে গেছে। যানজট নিরসনে মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।'

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে একনেকে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন

৮ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার সহপাঠীর বাবা

শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের উক্তি শেয়ার করে মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে বাঘাই বললেন, 'দৈত্যের পোশাক বামনের গায়ে'

শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের উক্তি শেয়ার করে মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে বাঘাই বললেন, 'দৈত্যের পোশাক বামনের গায়ে'

দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন দীপিকা, প্রথম প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনায় অভিনেত্রী

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ফিফার কাছ থেকে ভ্যাট ট্যাক্সসহ ৬৩ কোটি টাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচার স্বত্ব কিনেছে বিটিভি

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

জামায়াতে আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেওয়ার খবর 'ভিত্তিহীন'

১০

ইউনূস সরকারের আমলের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ঢাকা-দিল্লি

১১

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

১২