পশ্চিম এশিয়ায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি সৈন্য নিয়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলি। এ নিয়ে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ২৭ মার্চ যুদ্ধজাহাজটি তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছায়। এতে নৌসেনা ও মেরিন সদস্যদের পাশাপাশি আকাশপথে হামলায় সক্ষম যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।
সূত্রের খবর, ইরানে স্থলপথে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সম্ভাব্য এ অভিযান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযানের অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না এলেও সামরিক প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের ফলে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উভচর হামলায় সক্ষম ইউএসএস ট্রিপোলি একাধিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করতে পারে। এর আগে জাহাজটি জাপানে অবস্থান করছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেখান থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। একই অঞ্চলে ইউএসএস বক্সারসহ আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথাও জানা গেছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানে স্থলপথে সেনা পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছেন না। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে এবং শিগগিরই সংঘাত কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানও। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বহু তরুণ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস ট্রিপোলি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হলো।