ট্রাম্পের দাবি ইরান যুদ্ধের অবসান চূড়ান্ত পর্যায়ে, তবে তেহরান বলছে কিছুই চূড়ান্ত নয়

ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরান বলছে, এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি অসাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছি। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির নথিপত্র প্রায় প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই ইউরোপে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। 

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, চুক্তি সংক্রান্ত খবরগুলো জল্পনামূলক এবং এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশ অংশ নিয়ে অগ্রগতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন কিছু শর্ত ও অতিরিক্ত দাবি যুক্ত করেছে যা এখনো আলোচনাধীন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই সমঝোতা স্মারকের কোনো আনুষ্ঠানিক পক্ষ নয়।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

চুক্তির আশাবাদী বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, দেশটির তেল অবকাঠামোর ওপর নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠোর।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর করার এবং পরিস্থিতি আরও জটিল না করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ভারত ও সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বছর শেষে স্থানীয় সরকার ভোট: মির্জা ফখরুল

খাদ্য নিরাপত্তায় কানাডার ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা

সীমান্তে বিজিবি’র সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেসলে ও বিসিএসআইআরের, উন্মোচন ‘পুষ্টিগ্রো+’

ঢামেকের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে দুই অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

দম্ভের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান থাকা বেশি দরকার, শেষ পর্যন্ত বুঝল মোদি সরকার

আওয়ামী লীগের আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

১০

হেফাজত হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

১১

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

১২