দম্ভের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান থাকা বেশি দরকার, শেষ পর্যন্ত বুঝল মোদি সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ— সব মিলিয়ে দেশটির নরেন্দ্র মোদি সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এক মতামতধর্মী নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন দাম্ভিক অবস্থানে থাকার পর শেষ পর্যন্ত বাস্তবতাই মেনে নিতে হয়েছে মোদি সরকারকে। অহংকার বা অনড় অবস্থানের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান ও সময়মতো সিদ্ধান্ত নেয়াই যে বেশি কার্যকর, এই ঘটনা সেটিই প্রমাণ করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সাফল্য আজকের ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কী বার্তা দেয়? এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করতে হয়তো আরও সময় লাগবে। তবে এ আন্দোলন থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, তার ক্ষমতার ভিত্তি দুটি ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। একদিকে অনেক মানুষ তাকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে যারা তাকে সমর্থন করেন না, তাদের অনেকেই তাকে ভয় পান। কারণ ভারতে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করলে গ্রেপ্তার, হয়রানি, জামিন না পাওয়া, চাকরির ওপর চাপ কিংবা পুলিশের কঠোর আচরণের মতো পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ এই আন্দোলনে মানুষের সেই ভয় যে পুরোপুরি কেটে গেছে— এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে এ আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতাবানদেরও একসময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

আন্দোলনের সময় প্রতিদিনই বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণত সরকারের সমালোচনায় সংযত থাকা সংবাদপত্রগুলোও আন্দোলনকে বড় পরিসরে প্রচার করেছে এবং সম্পাদকীয়তে সরকারের সমালোচনা করেছে।

১৫ বছর আগে এ ধরনের ঘটনা খুব স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রকাশ্যে এত বড় ধরনের ভিন্নমত বা প্রতিবাদ খুবই বিরল। গণমাধ্যমের মালিকরা যে সরকারকে আর ভয় পান না বা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা চান না— এমন নয়। তবে কখনও কখনও কোনও আন্দোলন এতটাই জনসমর্থন পায় যে সেটিকে উপেক্ষা করাও সম্ভব হয় না।

আন্দোলনের শক্তির উৎস ছিল কী

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের শক্তি এসেছে দুটি কারণে। প্রথম কারণ ছিল প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। আর দ্বিতীয় এবং আরও গভীর কারণ ছিল সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ। অনেকের ধারণা ছিল, সরকার মনে করছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী পাশে থাকায় তারা যা খুশি তাই করতে পারে।

মূলত অনেক দিন ধরেই মোদি সরকার কঠোর অবস্থানে ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যাবে। কারণ সরকার বরাবরই দাবি করে এসেছে, আন্দোলনের মুখে তারা নতি স্বীকার করে না।

কিন্তু মোদি সরকার বুঝতেই পারেনি যে আন্দোলনের মূল কারণই ছিল মূলত সরকারের অহংকার। তাই এর জবাবে আরও কঠোর আচরণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত মোদি সরকারের পিছু হটার সিদ্ধান্তে বিজেপির যে রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, শুরুতেই কিছু দাবি মেনে নিলে সেই ক্ষতি আরও কম হতো।

বিষয়টি শুধু সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নয়। বরং মোদি মনে করেছিলেন, তাকে (ধর্মেন্দ্র প্রধানকে) সরিয়ে দিলে নিজের অবস্থান দুর্বল দেখাবে। কিন্তু এই ধরনের একগুঁয়েমির চেয়ে কমন সেন্স তথা কাণ্ডজ্ঞান অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়। আর শেষ পর্যন্ত মোদি সরকার সেই শিক্ষাই পেয়েছে।

এসব সংবাদমাধ্যম দিনের পর দিন মোদি সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালালেও সাধারণ মানুষ ক্রমেই সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

আর এখান থেকেই পাওয়া যাচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা। আর তা হচ্ছে— ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করতে পারে, সংসদকে উপেক্ষা করতে পারে কিংবা রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় করতে পারে।

কিন্তু সবকিছুর বাইরে ভিন্নমতেরও নিজস্ব শক্তি রয়েছে। সরকারি দপ্তর বা আইনসভায় না হলেও, রাজপথে ভিন্নমতের নিজস্ব শক্তি রয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের সেই কণ্ঠস্বর শুনতেই হয়।

 

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢামেকের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে দুই অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

দম্ভের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান থাকা বেশি দরকার, শেষ পর্যন্ত বুঝল মোদি সরকার

আওয়ামী লীগের আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

হেফাজত হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

আজ থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা, চলবে রুটিন অনুযায়ী

ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করছেন ৬৮ শতাংশ মার্কিনি: জরিপ

পাউরুটিতে ক্যান্সারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে রিট

১৭ বছরে পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী

১০

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে খাদে, আহত ১২ যাত্রী

১২