আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ১৭টি সংসদীয় আসনে ২৪টি উপজেলা ও ২টি সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব পালন করছে।
এ প্রেক্ষিতে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান চরফ্যাশন ও ভোলা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় নৌবাহিনী প্রধান নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টসমূহের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। আইএসপিআর থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চরফ্যাশন ও ভোলা পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিআইডব্লিউটিএ, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ এবং র্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হয়।
সাধারণ জনগণ যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও, পরিদর্শনকালে তিনি নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টর সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন্স এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোটের ব্যবস্থা রয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের যে-কোনো অপতৎপরতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। উদ্ভূত যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) এবং সোয়াডস্ টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে ভোটারগণের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বদ্ধ পরিকর।