ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারকেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) মূল প্ল্যান্ট ফের চালু ফিরেছে।
ক্রুড অয়েল সরবরাহ পেতেই উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগারটি।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় শোধনাগারটিতে পুনরায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত।
প্রকৌশলী শরীফ বলেছেন, আমাদের প্ল্যান্ট চালু হয়েছে সকাল ৮টায়। তবে প্রসেস হতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। এরপর শুরু হবে উৎপাদন। ধাপে ধাপে পুরোদমে উৎপাদনে যাব।
হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এক লাখ টন ক্রুড অয়েলের চালান নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে জাহাজটি গত বুধবার দুপুরে আসে কুতুবদিয়া চ্যানেলে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশে আসা ক্রুড অয়েলের প্রথম চালান।
২৪৯.৯৫ মিটার লম্বা বিশাল জাহাজটির কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে আসতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকার জাহাজে তেল খালাস করে (লাইটারিং) নিয়ে আসা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এসেছিল ক্রুড অয়েলের চালান।
কিন্তু যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয় সাময়িকভাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেছেন, নিরাপদে ‘এমটি নিনেমিয়া’ দেশে পৌঁছেছে। কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয়েছে লাইটারিংয়ের কাজ।
তিনি আরও বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড নেওয়ার জন্য ‘এমটি ফসিল’ নামের ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। সেটি আগামী ৯ মে বন্দরে ভিড়বে। ১০ মে লোড করে পুনরায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।
‘নর্ডিকস পলাক্স নামের আরেকটি জাহাজে বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার কারণে সেটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।’
ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি বিক্রি করেছে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি।