মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের প্রতি সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, উপসাগরীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ইরানের শত্রু নয়; তাই তাদের লক্ষ্য করে হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
আজ বুধবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরান সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় কাতার, ওমান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এ ধরনের হামলা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, এই হামলাগুলো নিয়ে কাতার গভীর উদ্বেগে রয়েছে, বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনায়।
আল-খুলাইফি বলেন, কাতারের ওপর হামলাগুলো দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও ওমানের ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম আল থানি সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানান আল-খুলাইফি। ওই সময় ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানিদের একটি বিষয় বুঝতে হবে- প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের শত্রু নয়।’ আরও জানান, কাতার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখছে। দোহার পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল-খুলাইফি বলেন, এই সংঘাতের টেকসই সমাধানের জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। সামরিক সংঘাত বন্ধ করে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তেও। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। বর্তমানে সেখানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষকে সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।