সেন্ট মার্টিন নিয়ে মহাপরিকল্পনা, চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলোয় স্বচ্ছ নীল জলে ভেসে ওঠা প্রবালের ছায়া, আর সূর্যাস্তে কমলা আকাশে মিলিয়ে যাওয়া সমস্ত ক্লান্তি- বাংলাদেশের এক মত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ঢেউয়ের ছন্দ, বাতাসে লবণের গন্ধ আর নারিকেল পাতার মর্মর, সব মিলিয়ে দ্বীপটি প্রকৃতির এক নীরব নাট্যমঞ্চ। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে উদ্বেগ। অতিরিক্ত পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ আর পরিবেশগত চাপ ক্রমেই হুমকির মুখে ফেলছে দ্বীপের স্বাভাবিক ভারসাম্য। মানবসৃষ্ট কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য। হুমকীর মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র। 

এক সময় সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতি রাতে অবস্থান করতেন ৭ হাজার ১৯৩ জন পর্যটক যা দ্বীপটির ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত চাপের ফলে দ্বীপজুড়ে বেড়েছে প্রবাল সংগ্রহের প্রবণতা, দূষণ এবং সৈকতে আবর্জনার স্তূপ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দ্বীপের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ প্রবালের ওপর, যা আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখে।

২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় উঠে আসে, ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে দ্বীপটিতে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে দাঁড়ায় ৪০টিতে। ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে পড়বে, এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে।

হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মহাপরিকল্পনায় আট বর্গকিলোমিটারের সেন্ট মার্টিনকে ভাগ করা হয়েছে চারটি জোনে। প্রথম জোনকে বলা হচ্ছে সাধারণ ব্যবহার এলাকা। অন্য তিন জোন থেকে হোটেল ও রিসোর্ট সরিয়ে আনা হবে এ জোনে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ পর্যটক সংখ্যা হবে ৯০০ জন, রাত কাটাবেন এখানেই। সৈকতে যানবাহন চালানো, রাতে আলো জ্বালানো, প্রবাল সংগ্রহ ও দূষণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জোন–২ হবে নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা যা দক্ষিণ অংশের সংবেদনশীল এলাকা রক্ষায় বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। পর্যটন অবকাঠামো, কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার, সৈকতে আগুন জ্বালানো ও রান্নাবান্না নিষিদ্ধ থাকবে এখানে।

জোন–৩ হবে টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল। বসতি স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার ম্যানগ্রোভ, ল্যাগুন ও কচ্ছপের প্রজনন স্থান আসবে বিশেষ সুরক্ষার আওতায়।

ছেঁড়া দ্বীপে আসবে জোর-৪ এর আওতায়। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশ থাকবে নিয়ন্ত্রিত। এক কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা, দূষণ ও বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধে করা হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনকে রক্ষা করতে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের বিকল্প নেই। তবে পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানে প্রকল্প হতে নেবে মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়।

 


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিরপুরে গোলাগুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২

গণভোটের রায় না মানলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না: বুলবুল

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নতুন কেউ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন স্পিকার

সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল, জরুরি সংবাদ সম্মেলন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে কিছু জানা নেই: স্পিকার

কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক

কারাগারের নিরাপত্তা ঢেলে সাজাতে বসছে এআই ক্যামেরা

সার্জিও গরের সফরে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজেদের চরকায় তেল দিন, সমালোচকদের কড়া জবাব নেইমারের

১০

আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

১১

কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

১২