মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্দেশ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদল শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থান করছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি ইতিমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
তবে আলোচনার প্রেক্ষাপট এখনো অনিশ্চিত ও নাজুক। একদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা নিয়ে তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন। এদিকে কুয়েত সম্প্রতি তাদের ওপর হওয়া ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।
আলোচনা শুরুর আগে ইরান কয়েকটি পূর্বশর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাকিস্তান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তারা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
বৈঠকের আগে গালিবাফ সংঘাতের শুরুতে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে কিছু ছবি প্রকাশ করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, ওই হামলাটি ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চলমান সংঘাতে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর লড়াইয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্য আগামী সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে ‘শান্তি ফেরার বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।