লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিভিন্ন স্থানে চালানো এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে এক বিবৃতিতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, লেবানন ও এর জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে বুধবার অল্প সময়ের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক স্থানে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে চালানো এসব হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
হামলায় রাজধানী বৈরুত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে নিহত হয়েছেন ৯২ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৪২ জন। শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহে নিহত ৬১ এবং আহত ২০০ জন।
এ ছাড়া বালবেক অঞ্চলে ১৮ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হারমেল জেলায় নিহত ৯ এবং আহত ৬ জন। দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহে নিহত ২৮ ও আহত ৫৯ জন।
পার্বত্য আলি জেলায় ১৭ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। উপকূলীয় শহর সিদনে নিহত ১২ ও আহত ৫৬ জন। আর দক্ষিণের টায়ার শহরে নিহত ১৭ এবং আহত হয়েছেন ৬৮ জন।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলাকে ‘নতুন গণহত্যা’ ও ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিপন্ন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং এতে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।