হরমুজ প্রণালি দিয়ে আপাতত দিনে ১৫ জাহাজ যেতে পারবে: ইরান

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও অগণিত জাহাজকে এ পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। আপাতত দিনে ১৫টি জাহাজ এ পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে, এর বেশি নয়।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-কে একথা জানিয়েছেন ইরানের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

যেসব জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে দেওয়া হবে সেগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে এবং বিশেষ প্রটোকল মেনে চলতে হবে। যুদ্ধবিরতির বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত দিনে ১৫টিরও কম জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পাড়ির অনুমতি দিচ্ছে ইরান। জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমতি, কড়া শর্ত এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনেই হচ্ছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)- এর তত্ত্বাবধানে এই নতুন বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। এই জলপথে জাহাজ চলাচল এখন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছেন ওই ইরানি কর্মকর্তা। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অশোধিত তেল সরবরাহ হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরোয়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়।

হরমুজ খুলে না দিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরে গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেন।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান সীমিত পরিসরে বা নিয়ন্ত্রিতভাবে হরমুজ খুলে দেবে বলে আগেই জানিয়েছিল। সেই কথামতোই তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু শর্ত বা প্রটোকল জারি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় জাহাজ চলাচল অবশ্যই ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়’ এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনা সাপেক্ষে হতে হবে।

বুধবার ইরানের আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই মানচিত্র অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের কাছের ঐতিহ্যবাহী রুট ছেড়ে আরও উত্তর দিকে অর্থাৎ, ইরান উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে চলতে হবে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রধান ট্রাফিক জোনে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ বিধ্বংসী মাইন থাকার সম্ভাবনা থাকায় সব জাহাজকে নতুন এই মানচিত্র অনুসরণ করতে হবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তেহরান প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। এই অর্থ ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হতে পারে।

অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে এক ডলার করে টোল নেওয়া হতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে চায় ইরান।

সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুসরাত ফারিয়ার ‘লোকে বলে’র টিজার প্রকাশ

অ্যাঙ্গোলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৮

গাজীপুরের দুই মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু সাড়ে ৫শ’ ছুঁইছুঁই

এক যুগ ধরে হজের খুতবা দিয়েছেন যারা

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা এডিবির

হামের উপসর্গে একদিনে ১৬ শিশুর মৃত্যু

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র হতে দেয়া হবে না: এসপি মাসুদ

আবারও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন গালিবাফ

১০

২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

১১

বুলডোজার চালিয়ে র‍্যাব ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দিলো সন্ত্রাসীরা, রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা

১২