খাবারের অন্যতম উপাদান লবণ। কিন্তু এই উপাদানটি কিন্তু অতিরিক্ত খেলে শরীরে নানা সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তে পারে চাপ। তবে অনেকেই জানে না কতটা লবণ নিরাপদ। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে নেফ্রোলজিস্ট ডা. বিক্রম কালরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
দিনে কতটা লবণ যথেষ্ট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত। পরিমাণটি মোটামুটি এক চা-চামচের সমান। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি এই ৫ গ্রামের মধ্যে শুধু রান্নায় দেয়া লবণ নয়, সারাদিনে খাওয়া সব খাবার থেকে পাওয়া লবণও ধরা হয়। অর্থাৎ, আপনি রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করলেও যদি নিয়মিত আচার, পাপড়, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত খাবার বা রেস্টুরেন্টের খাবার খান, তাহলে অজান্তেই দৈনিক সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তাই শুধু খাবারের ওপর আলাদা করে লবণ ছিটানো বন্ধ করলেই হবে না, সারাদিনে মোট কতটা সোডিয়াম গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে অতিরিক্ত লবণ গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়: নেফ্রোলজিস্ট ডা. বিক্রম কালরার মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের সঙ্গে কিছু গুরুতর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—
প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া: স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নতুন করে শরীর ফুলে যাওয়া: বিশেষ করে হাত-পা বা শরীরের অন্য অংশে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া: আগের তুলনায় শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হওয়া বা শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া সতর্ক হওয়ার কারণ।
বিভ্রান্তি: হঠাৎ কথা, আচরণ বা চিন্তাভাবনায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বারবার বমি: একটানা বমি হওয়াও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ শুধু অতিরিক্ত লবণের কারণেই হবে এমন নয়। অন্য অনেক অসুস্থতার কারণেও এগুলো দেখা দিতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
বেশি সতর্ক থাকবেন যারা: সবার জন্য অতিরিক্ত লবণ ভালো নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন। যেমন—
দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর বা হৃদ্যন্ত্রের দুর্বলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি
আগে কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি
তাদের ক্ষেত্রে কতটা সোডিয়াম গ্রহণ করা নিরাপদ, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। রোগের ধরন, কিডনির কার্যক্ষমতা ও ব্যবহৃত ওষুধের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।
লবণ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু খাবারের সঙ্গে লবণ কমানো নয়, আচার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণও কমাতে হবে।