ঝুঁকিটা বাংলাদেশেরই বেশি ছিল। ঘরের মাঠে পরপর চারটি সিরিজ জিতে সেই শঙ্কা থেকে মুক্ত বাংলাদেশ এখন সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে পারলেই সরাসরি টিকিট মিলবে বিশ্বকাপের। সেখানে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান র্যাঙ্কিং ৯ নম্বরে। তবে আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা এমনিতেই খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাই তারা র্যাঙ্কিংয়ে ৪ নম্বরে থাকার অর্থ, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান আদতে ৮ নম্বরেই।
এখন ঘরের মাঠে ভারত সিরিজ না হলে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং আর নড়বড় হবে না। সে ক্ষেত্রে এখানে ঝুঁকিতে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বর্তমানে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বর দল তারা। আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তাদের হাতে রয়েছে ভারতের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ। সেই দুটি জিততে পারলেও তাদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ নেই। তখন তাদের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮২, যা বাংলাদেশের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম।
এরই মধ্যে নবম দল হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফগানিস্তান। শনিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এখন সরাসরি খেলার জন্য একটি টিকিটই বাকি, যেখানে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থেকে অবস্থান জোরালো করেছে বাংলাদেশ। আগামী সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে দুই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই সিরিজ ঘিরে বেড়েছে অনিশ্চয়তা। সুতরাং বাংলাদেশ যদি এই সিরিজ খেলতে না পারে, তাহলে তাদের আর র্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে সিরিজটি হলে সমীকরণ বদলাতেও পারে। সেখানে ৩ পয়েন্ট খোয়ানোর ঝুঁকি আছে। অন্যদিকে যদি বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ না হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি দুটি ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারে, তাহলে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরেই থাকবে তারা।
২০২৩ বিশ্বকাপ তারা খেলতে পারেনি বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে। এবারও সেই বাছাই পর্ব খেলতে হবে ক্যারিবীয়দের। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সূচি ঘোষণা করেছে আইসিসি। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ ১০ দলের এই বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তারিখ ঘোষণা করা হলেও ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি। তবে নামিবিয়ায় বাছাই পর্ব হতে পারে বলে গুঞ্জন আছে। এই বাছাই পর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে খেলার সুযোগ পাবে; আর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দলগুলো বিশ্বকাপের প্রথম ধাপ সুপার সিরিজে খেলবে।
১৪ দলের বিশ্বকাপ আসর আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হিসেবে আগেই টিকিট নিশ্চিত করেছে। এরপর র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দল সুযোগ পাবে এই বিশ্ব আসরে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে যাবে সেরা চারটি দল।