হবিগঞ্জে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে জেলার হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, যা এ অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান জীবিকা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল সময়ের আলোকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, আবার কোথাও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ফলে হাজার হাজার কৃষক তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তবে ইতোমধ্যে হাওরের ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ, বাহুবল উপজেলার হাওরাঞ্চল। এসব এলাকার মধ্যে বানিয়াচং এ খোয়াই নদীর বাঁধ এবং বাহুবলে করাঙ্গী নদীর বাঁধ ভেঙেছে। বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ আনাসহ অনেক বর্গাচাষি দিশেহারা হয়ে গেছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে কৃষকরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পানি দ্রুত না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, যে-সব কৃষক আগেভাগে ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছিলেন, তারাও এখন নতুন বিপদের মুখে পড়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে রোদ না থাকায় অনেক স্থানে কাটা ধান শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ধানের শীষে চারা গজিয়ে গেছে, যা সম্পূর্ণভাবে বাজারমূল্য হারিয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, হঠাৎ করেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ধান কাটার পর্যাপ্ত সময় পাননি। অনেকেই শেষ মুহূর্তে ধান রক্ষার চেষ্টা করলেও নদী ভাঙনের ফলে প্রবল পানির চাপে তা সম্ভব হয়নি। ফলে বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হবিগঞ্জের কৃষকদের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।