আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০১টা ০৩ মিনিটে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ এর দাম ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে। ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৩৫ ডলারে। এর আগের দিনও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ কমেছিল।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৪৪ ডলারে নেমে আসে, যা আগের দিন ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত। মঙ্গলবার তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন 'নিরপেক্ষ' দেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তায় সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
এর কারণ হিসেবে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তবে চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া জাহাজগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করতে পারে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সরবরাহ সংকটের কারণে ব্রেন্টের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে অচল থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের মজুত কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, মে মাসের ১ তারিখে শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল। একই সময়ে, পেট্রোলের মজুত কমেছে ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত কমেছে ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।