গ্রীষ্মকালে পুরুষের শুক্রাণুর মান সবচেয়ে ভালো থাকে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। শীতকালে এর মান থাকে সবচেয়ে কম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, একটি গবেষক দল ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসকারী ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১৫ হাজার ৫৮১ জন পুরুষের বীর্যের নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুক্রাণুর গতিশীলতা বা স্পার্ম মোটিলিটি- অর্থাৎ ডিম্বাণুর দিকে কার্যকর সাঁতার কাটার সক্ষমতা—এই দুই অঞ্চলেই জুন ও জুলাই মাসে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ ছিল।
গবেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি বোঝা গেলে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব। কারণ, এতে চিকিৎসা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নির্ধারণ আরও যথাযথভাবে করা যাবে, যা সন্তান ধারণে চেষ্টা করা দম্পতিদের জন্য সহায়ক হবে ।
প্রজননবিষয়ক সাময়িকী ‘রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজি অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি’তে প্রকাশিত এই গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুতেও শুক্রাণুর গতিশীলতা মূলত ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফ্লোরিডায় সারা বছর উষ্ণ আবহাওয়া থাকার পরেও দেখা গেছে, এই অঞ্চলের পুরুষদের ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে স্পার্ম মোটিলিটি ছিল সবচেয়ে কম।
অবশ্য গবেষকরা আবহাওয়ার কারণে শুক্রাণুর ঘনত্বে কোনো পরিবর্তন পাননি।
গবেষণার সহলেখক ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের অধ্যাপক অ্যালান পেসি বলেন, ‘দুই ভিন্ন জলবায়ুর অঞ্চলে একই ধরনের মৌসুমি ধারা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ অঞ্চলেও গ্রীষ্মে স্পার্ম মোটিলিটি বাড়ে এবং শীতে কমে—যা ইঙ্গিত দেয়, কেবল পরিবেশের তাপমাত্রা দিয়ে এ পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।’
এই গবেষক আরও বলেন, ‘বীর্যের মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মৌসুমি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উষ্ণ জলবায়ুতেও স্পার্ম মোটিলিটির মৌসুমি ওঠানামা ঘটে- এ গবেষণা আমাদের পুরুষ প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বোঝাপড়া বৃদ্ধি করবে এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে।’