চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ভরিপ্রতি স্বর্ণের গহনার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি চলে যায়। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এরপর অনেকবার সমন্বয়ের পর ওঠানামা করলেও দাম মূলত কমেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবশ্য ক্রমান্বয়ে কমছেই স্বর্ণের দাম। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার টাকার বেশি কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস।
নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দুই লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ দুই লাখ নয় হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট এক লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।
স্বর্ণের এই দাম আরো কমবে নাকি আবার বেড়ে যেতে পারে; এগুলো নিয়ে অনুমান করার চেষ্টা করছেন অনেকেই। তবে, অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, স্বর্ণের দাম পূর্বানুমান করা বেশ কঠিন। কারণ এই বাজার খুবই নাজুক। প্রতিবেদন বিবিসি বাংলার।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানিয়েছেন, এই নিম্নগতি থাকলে আগামী কয়েকদিন হয়তো দেশে ভরি প্রতি স্বর্ণের দামও কম থাকতে পারে; তবে এটিও নিশ্চিত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু এখন দাম কম থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই বেড়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন আমিনুল শাহীন।
তিনি বলেন, ‘দাম কমবে কি না এটা কেউ বলতে পারবে না। তবে পিউর গোল্ডের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট ও লোকাল মার্কেট একটু ডাউনওয়ার্ড ট্রেন্ড বা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজার খুব ওঠানামা করছে, এটার প্রভাব আমাদের এখানে কাল বা পরশু এসে হয়তো পড়বে। তখন হয়তো দাম কমতে পারে।’
বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজার, চাহিদা, ডলারের মূল্য এরকম অনেকগুলো সূচকের ওপর নির্ভর করে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যের তারতম্য হয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন স্বর্ণের দাম কমলেও হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আবার বেড়ে যেতে পারে।