যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি হচ্ছে না। এই বৈঠক স্থগিত হওয়ার ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (১৭ জুন) স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্বিত করেছে ইরান। এর কারণ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাতভর এবং শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহও তীব্র সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যেকোনও আলোচনা তেহরানের ‘রেড লাইন’ মেনেই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, ইরানের দাবি-দাওয়া ঠিকঠাক মানা না হলে আলোচনা সামনে এগোবে না। ইরানের পক্ষ থেকে শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা।
দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপর রয়েছে। শত্রুকে বিধ্বংসী জবাব দিতে আমরা কোনও দ্বিধা করব না।’
চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আগামী রোববার (২১ জুন) মিশরের আলামেইন শহরে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে কায়রো ও ইসলামাবাদ।
এর আগে শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে পাঠানো এক বার্তায় সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যে পরিকল্পিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড এই আলোচনা আয়োজনে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। বুর্গেনস্টকে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে।’ তবে আলোচনার নতুন কোনও তারিখ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।