শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অর্ডিন্যান্স উপেক্ষা করে এবং মানবিক কারণ দেখিয়ে ড্রপআউট হওয়া দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শাখা ছাত্রদলের একাংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ছাত্রত্ব পুনর্বহাল হওয়া দুজন হলেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফরহাদ হোসেন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মারুফ। ফরহাদ শেরেবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মারুফ সক্রিয় কর্মী। তবে মাস কয়েক আগে প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের মারধরের ঘটনায় প্রক্টর বাদী হয়ে যে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাতে ফরহাদ ১ নম্বর ও মারুফ ৩ নম্বর আসামি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ফরহাদ ও মারুফের আবেদন পর্যালোচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। গত ২৮ জুলাই ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলে কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তাদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।
ফরহাদ ২০১৮ সালে প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২০ সালে পুনঃভর্তি হয়েও ‘এজিইসি-১০৯’ কোর্সে অকৃতকার্য হওয়ায় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। পরবর্তীতে তিনি পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আবেদন করলে তদন্ত কমিটি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করে কোনো অসঙ্গতি পায়নি এবং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ছাত্রত্ব ফেরানোর কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট মত দেয়।
মারুফ ২০১৯ সালে কম উপস্থিতির কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং ২০২০ সালে সব কোর্সে অকৃতকার্য হন। ২০২১ সালে পুনঃভর্তি না হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়ন ও পিতৃহারা হওয়ার কারণ দেখিয়ে আবেদনের পর তদন্ত কমিটি সাধারণ নিয়মে সুযোগ না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় তাকে লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ পুনঃভর্তির বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে; যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়।
এ সিদ্ধান্তে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মী। তবে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ব্যাপারে সরাসরি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তারা।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি বিধিমোতাবেক যৌক্তিক অভিমত দিয়েছিল, তবে একাডেমিক কাউন্সিল বড় হাউজ হওয়ায় সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত এসেছে।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ জানান, মানবিক ও রাজনৈতিক আবেদন বিবেচনা করে একাডেমিক কাউন্সিল ও কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।