রাজধানীতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠেছে পাঞ্জাবির বাজার। অভিজাত শপিং এলাকা বিশেষ করে বনানী ও গুলশান–এর বিভিন্ন বুটিক ও ব্র্যান্ডের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে পাঞ্জাবির উচ্চমূল্য।
বনানীর একটি বুটিক ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদ–এ পাঞ্জাবির দাম শুরু হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ টাকায়। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শিত দামী পাঞ্জাবিগুলোর বেশির ভাগই তৈরি করা হয়েছে উন্নতমানের কাপড়ে জারদোসি ও সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির মাধ্যমে। এসব পোশাক তৈরিতে সময় লাগে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগাম অর্ডার দিতে হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিজাইনার আহমেদ তুহিন রেজা জানান, দক্ষ কারিগরদের দীর্ঘ সময়ের শ্রম ও সূক্ষ্ম কারুকাজের কারণেই এসব পোশাকের দাম বেশি। তিনি বলেন, উন্নত মান ও আভিজাত্যপূর্ণ নকশার মাধ্যমে গ্রাহকদের রুচিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাঞ্জাবিকে শেরওয়ানিতেও রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে, তবে এতে খরচ আরও বাড়ে।
একই ভবনে থাকা জুরহেইম–এও বিভিন্ন দামের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। এখানে দাম শুরু হয়েছে ৫ হাজার টাকা থেকে, যা লাখ টাকার ঘরও ছুঁয়েছে। কিছু পুরোনো সংগ্রহে দেওয়া হচ্ছে ছাড়। দোকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পণ্যে সূক্ষ্ম হাতের কাজ, আরামদায়ক কাপড় এবং সীমিত সংস্করণের নকশাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বনানী এলাকার পাশাপাশি আড়ং, ইনফিনিটি, মান্যবরসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডেও পাওয়া যাচ্ছে নানা দামের পাঞ্জাবি। এসব দোকানে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামের পোশাক রয়েছে।
শুধু বনানী বা গুলশান নয়, রাজধানীর বড় শপিং মল যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং মল–এও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী পাঞ্জাবি খুঁজছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির ক্রেতা উচ্চমূল্যের এসব পাঞ্জাবির প্রতি আগ্রহী। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামের মধ্যেই নিজেদের পছন্দের পোশাক খুঁজে নিচ্ছেন।