হঠাৎ কোমরের পাশে অসহ্য ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা বমিভাব এগুলো অনেক সময় সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনিতে পাথর। বর্তমানে এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক জটিলতার কারণেও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।
কিডনিতে পাথর মূলত খনিজ ও লবণের শক্ত জমাট অংশ। এটি কিডনির ভেতরে তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘রেনাল ক্যালকুলি’, ‘নে
কেন হয় কিডনিতে পাথর: কিডনির পাথর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত শরীরের ওজন, কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা, এবং কিছু সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের ব্যবহার। কিডনির পাথর প্রস্রাব তৈরির পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত যেকোনো অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। যেটা হতে পারে কিডনি থেকে শুরু করে ব্লাডার পর্যন্ত। সাধারণত যখন প্রস্রাবে পানি কম থাকে, তখন খনিজ পদার্থগুলো ক্রিস্টাল আকারে জমে একসঙ্গে লেগে গিয়ে পাথর তৈরি করে।
কিডনির পাথর প্রস্রাব তৈরির পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত যেকোনো অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে।
কিডনি স্টোন বের হওয়া বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিলে সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কখনো কখনো শুধুমাত্র ব্যথার ওষুধ সেবন এবং প্রচুর পানি পান করাই স্টোন বের করার জন্য যথেষ্ট হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে স্টোনের আকার, অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী সার্জারি বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কিডনির পাথরের সাধারণ লক্ষণ: কিডনির পাথর নীরবে বড় হয় আর এ কারণেই শুরুতে লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিডনি পাথর সাধারণত তখনই লক্ষণ দেখা দেয় যখন এটা নড়াচড়া শুরু করে। এমনকি যদি কিডনির পাথর ইউরেটারের ভেতরে আটকে যায়, তাহলে এটি প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং কিডনি ফুলে যেতে পারে, পাশাপাশি ইউরেটারে খিঁচুনি সৃষ্টি হয়। এতে তীব্র ব্যথা হতে পারে। তখন সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায়:
পাঁজরের নিচে কোমর বা পিঠে তীব্র ব্যথা কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।
পাঁজরের নিচে কোমর বা পিঠে তীব্র ব্যথা
ব্যথা তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়া
ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করা ব্যথা
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া
ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
বমিভাব বা বমি
জ্বর ও কাঁপুনি
চিকিৎসকদের মতে, পাথর প্রস্রাবের পথে যেভাবে নড়াচড়া করে, ব্যথার জায়গাও সেভাবে পরিবর্তন হতে পারে।
চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে যখন: কিছু লক্ষণ অবহেলা করা একেবারেই ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি যদিব্যথা এত বেশি হয় যে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। বমি ও তীব্র ব্যথা একসঙ্গে হলে। সেইসঙ্গে যদি জ্বর বা কাঁপুনি দেখা দেয়। প্রস্রাবে রক্ত কিংবা সমস্যা হলে সময় নষ্ট করা যাবে না।
হেপাটাইটিস এ এবং ই নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ ও লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
কিডনিতে পাথর একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সময়মতো লক্ষণ চিনে দ্রুত চিকিৎসা নিলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতন থাকলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।