বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে তেলের দাম, আরও কমার আভাস

ছবি সংগৃহীত।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানোর পর 

মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বরে বড় আকারে উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় সরবরাহ বেশি হয়ে পড়ার শঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও রাশিয়ার তেল সরবরাহে নতুন করে বাধার আশঙ্কা বাজারে কিছুটা সহায়তা জুগিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার

মঙ্গলবার ভোরে লন্ডনভিত্তিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অপরিবর্তিত থেকে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ৬৮.৭৬ ডলারে। অপরদিকে, নিউ ইয়র্কভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ২ সেন্ট কমে হয় ৬৬.২৭ ডলার। এর আগের দিন দুই সূচকই ১ শতাংশের বেশি হারে কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকে।

এদিকে ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতে যতই অনিশ্চয়তা থাক না কেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকে থাকবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার। ২০২৬ সালে তা কমে ব্যারেলে ৫৬ ডলারে নেমে যেতে পারে।

তবে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বা দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো যেকোনো ঘটনা এই পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গোল্ডম্যান স্যাক্স। এদিকে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে।

বিশ্ব তেল সরবরাহের প্রায় অর্ধেক জোগানদাতা ওপেক প্লাস গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন সীমিত রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু চলতি বছর সংগঠনটি একের পর এক উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এটি ওপেক প্লাসের সর্ববৃহৎ উৎপাদন হ্রাসের পূর্ণ প্রত্যাহার-দৈনিক প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল বা বৈশ্বিক চাহিদার ২.৪ শতাংশ তবু বাস্তবে বাজারে ফেরত আসা তেলের পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করার জন্য। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে চাপে ফেলতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, রাশিয়ার তেল আমদানিকারকদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর আগে জুলাইয়ে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়।.

বর্তমানে ভারত রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটি গড়ে দৈনিক ১৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।

এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্য বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, ‘২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর ভারত রাশিয়ান তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ভারতীয় আমদানি ব্যাহত হলে রাশিয়াকে সীমিত সংখ্যক মিত্র দেশের কাছে বিক্রি করতে হবে।’


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ মাস কোনো ফোন ব্ল্যাকলিস্ট হবে না: ডিসি মাসুদ

যশোরে বিএনপি নেতা হত্যা: খুনিদের পালানো রুখতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির সতর্কতা

চাটমোহর প্রেসক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

সচিব হলেন ৩ কর্মকর্তা

দেশু জুটির ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন শুভশ্রী

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা, আটক ২৭৩

বাড়ল এলপিজির দাম

ভারতে বিশ্বকাপ দল পাঠানো নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি

কাওরানবাজারে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১০

বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ, বাদ পড়লেন যারা

১১

ব্রুকলিনের ‘কুখ্যাত’ কারাগারে প্রেসিডেন্ট মাদুরো

১২