কিউলেক্সে অতিষ্ঠ নগরবাসী, সামনে ডেঙ্গুর শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীতে মশার উপদ্রব আবারও চরমে উঠেছে। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার দাপটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন- এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী মে মাস নাগাদ ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর মশা নিয়ন্ত্রণে শতকোটি টাকা ব্যয় করলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার আগেই বাসাবাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় দিনেও মশারি ব্যবহার বা কয়েল জ্বালানো ছাড়া উপায় নেই।

মিরপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ও গুলশানের মতো এলাকাতেও মশার উৎপাত সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত নয়, আর ফগিং কার্যক্রমও তেমন কার্যকর হচ্ছে না।

পীরেরবাগের বাসিন্দা নাইম ইসলাম বলেন, মাঝে মাঝে এসে শুধু ধোঁয়া ছিটিয়ে চলে যান কর্মীরা, এতে মশা কমে না। মিরপুরের আমির হামজা জানান, গত বছরের ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির পর এবার আগেভাগেই মশা বেড়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কিউলেক্স মশা কিছুটা কমেছে এবং আগামী দিনেও কমতে পারে। তবে বৃষ্টি হলে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়।

তিনি জানান, শুধু ফগিং করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার বা ডাবের খোসায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মায়। এসব জায়গা পরিষ্কার না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৪ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ৪ জন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ লাখের বেশি মানুষ এবং মারা যান ৪১২ জন। ২০২৪ সালে মৃত্যু ছিল ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং প্রাণহানি ঘটে ১ হাজার ৭০৫ জনের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত মে-জুনে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলেও এবার বছরের শুরুতেই রোগী বাড়ছে, যা আগাম বিপদের ইঙ্গিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা জরুরি। স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতি শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাড়ি, আঙিনা, ড্রেন ও জলাধার পরিষ্কার রাখার কার্যক্রম চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নিয়মিত মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করেছে এবং তদারকি বাড়িয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, নাগরিকরা সচেতন না হলে প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

সব মিলিয়ে, মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প

কিউলেক্সে অতিষ্ঠ নগরবাসী, সামনে ডেঙ্গুর শঙ্কা

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির লক্ষ্যে তুরস্ক, সৌদি, মিসর ও পাকিস্তানের বৈঠক

ঈদে সড়কে বাড়তি চাপ, দুর্ঘটনার বড় কারণ বেপরোয়া চালনা

ঈদে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো লোকারণ্য

ট্রেন-বাস সংঘর্ষে তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

ছোটবেলার মতো ঈদের আনন্দ বড় হলে পাওয়া যায় না : জায়েদ খান

যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১০

৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

১১

হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ ভ্যান সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৪

১২