৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ দিন দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এমন খবরে সামাজিক মাধ্যমে এক প্রকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অবশেষে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন। ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ না হয়ে কেবল কিছুটা কমবে, যার ফলে কিছু এলাকায় স্বল্পচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির বলা হয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীস্থ সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরী রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখ সকাল ৮:০০টা থেকে ৭ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। উক্ত সময়কালে জাতীয় গ্যাস গ্রীডে বর্তমান দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পেয়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে। ফলে এ সময়ে সারাদেশে গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর, ২০২৫ এ অনুরূপ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।
আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টায় এফএসআরইউটি পুনরায় চালু হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামিট গ্রুপের মালিকানাধীন এফএসআরইউটির গত ৩ নভেম্বর রক্ষণাবেক্ষণে যাওয়ার কথা থাকলেও তা একদিন পিছিয়ে ৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত হ্রাসের কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদার জোগান দিতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যার দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে একটি পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি।
এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫৭৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। গত ৩০ অক্টোবর আমদানি থেকে সরবরাহ দেওয়া হয়েছিল ৯৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে অন্যটি দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। ফলে দেশীয় ও আমদানি মিলিয়ে মোট সরবরাহ ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যেতে পারে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত গ্রাহকদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে প্রকৃত চাহিদা ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে প্রায় ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করে মেটানো হয়।
ইতিমধ্যেই দুটি এফএসআরইউ সচল থাকা সত্ত্বেও অনেক এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে এবং দিনের বেলা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৪ দিন সরবরাহ আরও কমার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।