ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ডকে সাময়িকভাবে যুদ্ধ প্রস্তুতি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি গ্রিসের সৌদা বে বন্দরে অবস্থান করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য এটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, আগুনটি যুদ্ধ- সংক্রান্ত কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয় এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে ব্লুমবার্গ। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের বাইরে রণতরিটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগে। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৬০০ নাবিককে তাঁদের আবাসন থেকে সরিয়ে নিতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুদ্ধকালীন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই জাহাজটিতে একাধিক সমস্যা চিহ্নিত হয়। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান ওঠানামার ব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম, অস্ত্র পরিবহনের লিফট এবং শত্রুর হামলার মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।
সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে পেন্টাগন জানিয়েছে, রণতরিটি হস্তান্তরের প্রায় এক দশক পরও এর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ সক্ষমতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এখনও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ২০২৫ সালের জুনে মোতায়েন করা এই রণতরিটি প্রায় নয় মাস সাগরে ছিল, যেখানে সাধারণত এ ধরনের জাহাজ সাত মাসের বেশি মোতায়েন থাকে না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেজেরাল্ড আর ফোর্ড- এর এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।