চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ জরুরি।
গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর স্যার সৈয়দ রোডে সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি: বাংলাদেশের শ্রমিক স্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক এক পর্যালোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আয় ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতরে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হচ্ছে না। তিনি ‘ফায়ার ব্রিগেড’ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
লেখক আলতাফ পারভেজ বলেন, এই যুদ্ধ মূলত শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে এক নীরব আঘাত। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমিক শ্রেণির ওপর। তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, জর্ডান ও লেবাননের মতো দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হঠাৎ হামলার ঝুঁকিতে অনেক শ্রমিক একসঙ্গে হতাহত হতে পারেন। এছাড়া ফ্লাইট অনিশ্চয়তার কারণে জরুরি অবস্থায় শ্রমিকদের দেশে ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, ইতোমধ্যে দেশে ফেরা শ্রমিকদের পুনর্বাসন নিয়েও কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে ব্যয় কমাতে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, রাইড-শেয়ারিং খাতে যুক্ত শ্রমিকদের আয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি শ্রমিক সুরক্ষা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন।
অন্য বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক মন্দা দেখা দিলে রপ্তানি কমে যাবে এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরতে পারেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সেক্টরভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা এবং সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে তারা মত দেন।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব কৃষি, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। এতে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
আলোচনার শেষে শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।