চীন সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তাইওয়ান ইস্যুই দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।’
আজ শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় তিনি বেইজিং ও ওয়াশিংটনকে কঠিন পরিশ্রমে অর্জিত স্থিতিশীলতা রক্ষা করার আহ্বান জানান।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি মূলত ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ ছিল। তবে ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আগামী ১৪-১৫ মে চীন সফরে আসবেন। এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি হবে তার প্রথম চীন সফর।
তার প্রথম দফা শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দুই নেতা দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকের পর একটি সাময়িক সমঝোতা হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ই রুবিওকে বলেন, দুই দেশকে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে এবং মতবিরোধগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, যদিও ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে সম্পর্ক ‘সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল’, তবে তাইওয়ান ইস্যুই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তারা দ্বীপটির আন্তর্জাতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও সমর্থনের তীব্র বিরোধিতা করে।
ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াং ই ও রুবিও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।