নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিন দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ছাত্রদল নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়। সর্বশেষ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের এ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, ইসির অনুরোধে আমরা আমাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আবারও কোনো গোষ্ঠী অপকৌশল ব্যবহার করে ইসির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে আমরা এর উপযুক্ত জবাব দেব।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিব বলেন, ছাত্রদল প্রমাণ করেছে, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তারা আপসহীন। গতকাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সিনিয়র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মানার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। আজ ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে যে ব্যালট দেওয়া হবে, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনও স্থগিত করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, আর যদি কেউ হট্টগোল সৃষ্টি করে কোনো কিছু আদায় করতে চায়, তাহলে তাদের প্রতিহত করা হবে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি চর্চা করা চলবে না। ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ দেশের সব ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। আমরা অবিলম্বে এসব বন্ধের দাবি জানাই।
কর্মসূচি চলাকালে আজ বিকেলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেখানে কখনোই জামায়াত-শিবির-রাজাকারদের ক্ষমতায় আনার জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যে চেষ্টা, তা আমরা মেনে নেব না।
নাসির উদ্দিন বলেন, দুটি দল নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আগামীর যে নির্বাচন, ১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, দুটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এদিকে, কর্মসূচি শেষ করে ছাত্রদল নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে ঝাড়ু নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামে। কর্মসূচি পালনকালে সৃষ্ট ময়লা তারা পরিষ্কার করে। এরপর আগারগাঁও ছাড়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের তিন অভিযোগ
এক. পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
দুই. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিন. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।