কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। আসামিদের দণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ বলেন, চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিল। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ওই তরুণী তার বান্ধবীর সাথে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে বেড়াতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। বান্ধবী চলে যাওয়ার পর পৌনে ৭ টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেয়।
নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামিরা তাকে একটি বাড়িতে রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। পরে তিনি নিজে থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম শিকদার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করে।