কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন প্রায় আড়াই হাজার বন্দি। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের ঈদ আনন্দমুখর করতে নতুন পোশাক, বিশেষ খাবার, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন থেকেই উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়। বন্দিদের মধ্যে পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শাড়িসহ শিশুদের জন্য নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। নারী বন্দিদের জন্য ছিল মেহেদি উৎসব এবং বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী।
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। সকালের নাশতায় পরিবেশন করা হয় পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে ছিল পোলাও, রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, মিষ্টান্ন ও কোমল পানীয়। রাতের খাবারে দেওয়া হয় ভাত, মাছ, মুরগি, ছোলা ও সবজি।
ঈদের দিন সকালে দুটি জামাতে নামাজ আদায় করেন বন্দিরা। এতে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অংশ নেন।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয় বন্দিদের। অনেকেই বাড়ির খাবার নিয়ে দেখা করতে আসেন। দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। শিশুদের জন্য রাখা হয় বেলুন, চকলেট ও মিষ্টি। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পও ছিল।
ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক জাহিদ হাসান বলেন, বন্দিদের ঈদ আনন্দমুখর করতে কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, এতে বন্দিরা সন্তুষ্ট।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, কারাগারে থাকা বন্দিরা যাতে ঈদের সময় স্বজনদের অভাব কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে পারেন, সে জন্যই এ আয়োজন করা হয়েছে।