স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটলে বাড়তে পারে ওষুধের দাম। কেননা, তখন আর ফ্রিতে পেটেন্ট সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। সম্ভাব্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশার আলো দেখাচ্ছে একদল তরুণ গবেষক। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভেষজ উদ্ভিদের জৈব রাসায়নিক যৌগের তথ্যভান্ডার রয়েছে তাদের কাছে। যে তথ্য ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা যেতে পারে নতুন ওষুধ তৈরির ফর্মুলা।
জটিল কিডনী রোগ নিয়ে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন কুমিল্লার আব্দুল বাতেন। ৪ দিনে তাকে কিনতে হয়েছে ৮ হাজার টাকার ওষুধ। জানালেন, সামর্থ্য না থাকায় সামনের দিনে হয়তো কমিয়ে দিতে হবে ওষুধ কেনা।
সংকটেরও মাঝেও এদেশে এখনো মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে ওষুধের দাম। কেননা, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নাম থাকায় এখনো ওষুধ তৈরির পেটেন্ট বিনামূল্যে পায় বাংলাদেশ। কিন্তু, নিকট ভবিষ্যতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ ঘটলে, অনেকটাই দাম বেড়ে যেতে পারে ওষুধের।
ঢাবির ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার বলেন, ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া, গভর্মেন্ট সবাই মিলেই একসঙ্গে এই এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরে প্যাটেন্ট রিলেটেড ইস্যুর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিতে কি কি ইমপ্যাক্ট আসতে পারে সেটা নিয়ে তারা কনসার্ন এবং তারা সেটা নিয়ে কন্টিনিউয়াসলি কাজ করে যাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আশা জাগাচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের গবেষণা। ৭শ উদ্ভিদ থেকে প্রায় ৬৩ হাজার ফাইটোকেমিক্যাল বা জৈব রাসায়নিক যৌগের সন্ধান পেয়েছে ডন অব বায়োইনমেটিক্স নামে একটি দেশিয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যার প্রতিটি যৌগে লুকিয়ে আছে একেকটি সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।
ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের কর্ণধার এসকে ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমাদের এই ডেটাবেসটা সবচেয়ে বড় কার্যকারী জায়গা হচ্ছে এখানে যে, যখনই তাদের কম্পাউন্ড বা এই উপাদানগুলো দরকার হবে তারা জাস্ট আমাদের ডেটাবেস থেকে ডেটাগুলো নিয়ে দেন ড্রাগ ডিসকভারি শুরু করতে পারবে, খুব দ্রুত।
দেশে ফাইটোকেমিক্যাল যৌগের বড় সংকলনকে বিপুল সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখেছেন ফার্মাসি বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে একাডেমিক গবেষণায় এই ডাটাবেজ ব্যবহার করছেন দেশের ৪৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যতে এটি কাজে লাগিয়ে আবিষ্কার করা যেতে পারে নতুন-নতুন ওষুধ তৈরির ফর্মুলা।
ঢাবির ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাকির আহমেদ চৌধুরী বলেন, এই ধরনের ডাটাবেস নতুন ঔষধ আবিষ্কারের একটা প্রাথমিক ধাপ যদি মানুষের উপযোগী এবং নিরাপদ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় ল্যাবোরেটরি গবেষণা প্রি ক্লিনিক এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমেই এইটাকে এস্টাবলিশ করতে হবে।
দেশের ওষুধ শিল্পের বিস্তারে গবেষণায় আরো জোর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।