সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অপরিকল্পিত মিনি স্টেডিয়াম,কোটি টাকা জলে

ত্রিশ ফুট গভীর জায়গা ভরাট করে ২০১৮ সালে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টি নন্দন কাজিপুর স্টেডিয়াম। যেখানে ছিল সারি সারি বেঞ্চ, গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, ওয়াশ ব্লক এমনকি অফিসারদের জন্য স্টাফরুমও প্রস্তুত করা হয়। মাঠটি সরকারি ভাবে উদ্ভাবনও হয়, কয়েক বছর বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। অথচ ছয় বছরের ব্যবধানে ২০২৪ সালে সেই মাঠটি দখলে নেয় স্থানীয় জমির মালিকগণ। সেখানে নেই আর বেঞ্চ, গ্যালারি সারি সারি অবকাঠামো, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে ড্রেসিং রুম, ওয়াশ ব্লক  অফিসারদের স্টাফরুম। মাঠের মধ্যে কেউ বাড়ি নির্মাণ করছে, কেউ গাছের বাগান করে বাউন্ডারি করে রেখেছে। অথচ কাজিপুর পিআইও অফিস বলছে, সরকারি জায়গাতেই মাটি ভরাট করা হয়েছে। জেলা ক্রিয়া সংস্থা এই মাঠ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের কোটি টাকাই জলে গেছে।

তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে সারাদেশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের আওতায়  সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের থেকে ৪০ লাখ টাকার ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়,  পিআইও অফিস থেকে ত্রিশ ফুট গভীর জলাশয় কোটি টাকার ব্যয়ে মাটি ভরাট করা হয়। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও গণপূর্ত বিভাগ থেকে স্টেডিয়ামের চারপাশে ভাঙ্গণ রোধে আরও কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক স্থায়ী বাঁধ  করা হয়। এমনকি, ২০১৮ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মাঠটি উদ্ভাবন করেন।

সোনামুখী গ্রামের সোহাগ হোসেন জানান, কয়েক বছর এখানে খেলা হয়েছে। এরপর জমির মালিকগণ কোর্টে মামলা করে, তারা রায় পায়। এরপর তারা মাঠ দখল করে নেয়।

এবিষয়ে জমির মালিক ইব্রাহিম জোয়াদ্দার বলেন, এই মাঠের জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। বালু ভরাটের সময় আমাদের বলা হয়েছিল, তোমরা জায়গার টাকা পয়সা পাবে, কিন্তু আমরা পাইনি। এজন্য আদালতে মামলা করে আমরা রায় পেয়ে জমির দখল নিয়েছি। 

কাজিপুর পিআইও কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকারি জায়গাতেই মাটি ভরাট করা হয়েছে। সরকারি টাকার কাজ তো বেসরকারি জায়গায় করা সম্ভব না।

কাজিপুর স্টেডিয়াম কেন দখল হলো, কেন খেলা হচ্ছে না, সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার নূরে এলাহীর কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি জানান, কাজিপুর মিনি স্টেডিয়ামের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এখন চালু আছে না বন্ধ আছে, এবিষয় আমার জানা নাই। এসময় তিনি আরও জানান, 

মাঠে দ্রুত খেলা ফেরাতে ডিসি স্যার ও যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছিল ১৩১টি। দেশব্যাপী এই স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের পর ২০১৫ সালে ৭ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছিল এই স্টেডিয়ামের।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা

টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বছর শেষে স্থানীয় সরকার ভোট: মির্জা ফখরুল

খাদ্য নিরাপত্তায় কানাডার ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা

সীমান্তে বিজিবি’র সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

বাংলাদেশে পুষ্টি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেসলে ও বিসিএসআইআরের, উন্মোচন ‘পুষ্টিগ্রো+’

১০

ঢামেকের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে দুই অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

১১

দম্ভের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞান থাকা বেশি দরকার, শেষ পর্যন্ত বুঝল মোদি সরকার

১২