জাতিসংঘে হরমুজ নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব, ভেটো চীনের!

হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু ও সময় নির্বাচনকে ‘অনুপযুক্ত’ উল্লেখ করে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো প্রস্তাব সংকট সমাধানে সহায়ক হবে না। 

তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের কোনো প্রস্তাব পাস করা সংকটের সমাধানে বিন্দুমাত্র সহায়ক হবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, খসড়া প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির জন্য তোলা হয়, তবে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে এতে ভেটো দিয়ে তা বাতিল করে দিতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া এই মার্কিন-বাহরাইনি খসড়া প্রস্তাবে ইরানের প্রতি হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের সামরিক হামলা এবং মাইন স্থাপন বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের মতে, এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। 

কারণ এর আগেও গত মাসে প্রায় একই ধরনের একটি মার্কিন সমর্থিত প্রস্তাবের বিপক্ষে চীন ও রাশিয়া তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। সেই সময় দুই দেশের পক্ষ থেকেই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রস্তাবের ভাষা এবং শর্তাবলি সম্পূর্ণ একপেশে এবং তা ইরানের ওপর এককভাবে দায় চাপানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ সংবাদ ও ঘটনাবলি নিয়ে কাজ করা নিউজ পোর্টাল ‘পাসব্লু’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের দূত ফু চং-এর একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। সেখানে হরমুজ প্রণালির এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফু চং সরাসরি বলেন, ‘আমরা মনে করি না যে এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সঠিক আছে, এমনকি এর জন্য নির্বাচিত সময়টিও মোটেও উপযুক্ত নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে একপেশে নিষেধাজ্ঞা বা নিন্দা প্রস্তাব পাসের চেয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা বেশি জরুরি।

চীনা রাষ্ট্রদূতের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত উভয় পক্ষকে একটি আন্তরিক ও গভীর কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করা, যার মাধ্যমে সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই জটিল মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো জোড়াতালির প্রস্তাব পাস করা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে, যা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না।’ চীনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে জাতিসংঘে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ২২

১

ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে বাদ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

২

নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা আনছে কানাডা, কারা পাবেন অগ্রাধিকার?

৩

দিনভর অনশন, মধ্যরাতে নিয়োগপত্র পেলেন ২০ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থী

৪

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সসম্মানে সেই বাংলা শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিল পুলিশ: মাহদী আমিন

৫

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ইসরায়েলি হলিউড অভিনেতা

৬

ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৭

‘জামায়াত এমপিদের এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে’

৮

ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম ঘোষণা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর

৯

আইএলসি বিএইউ’র মাধ্যমে জার্মান-চীনা-জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ পাবে শিক্ষার্থীরা

১০

ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৪৫

১১

পিত্তথলিতে কেন পাথর হয়, এর চিকিৎসা কী

১২