কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির সফরে তাহসান, বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর শুভেচ্ছাদূত তাহসান খান। সফরকালে তিনি রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা তরুণরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও তারা ভবিষ্যতের আশা ধরে রেখেছেন। তারা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিদিনের নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষা, কমিউনিটির সহায়তা এবং অর্থবহ কর্মকাণ্ড কীভাবে তাদের মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সহায়তা করছে, সে বিষয়েও কথা বলেন।

তাহসান খান বলেন, ‘এই তরুণদের দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিকতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বছরের পর বছর বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও তারা স্বপ্ন দেখতে, শিখতে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের কণ্ঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেন শরণার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।’

সফরকালে জনপ্রিয় এই গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গেও দেখা করেন। তারা জানান, এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে এবং একদিন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে।

বৃহস্পতিবারের (২৫ জুন) এই সফরে তাহসান খান বলেন, ‘আজ যেসব তরুণের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তাদের অনেকেই জীবনের বেশির ভাগ সময় শরণার্থী হিসেবে কাটিয়েছেন। তবুও তারা শিখছেন, নতুন কিছু তৈরি করছেন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এই দৃঢ়তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, তরুণদের ওপর বিনিয়োগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আশা থাকলেই হবে না, শরণার্থীদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও প্রয়োজন, যাতে একদিন তারা নিজেদের সমাজ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

বর্তমানে বাংলাদেশে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী।

এদিকে এমন এক সময়ে তাহসানের এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের সুযোগ এখনও তৈরি না হওয়ায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের সম্পৃক্ততায় বিনিয়োগ তাদের আশা ধরে রাখতে, সক্ষমতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সফর শেষে তাহসান খান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তারা এখনও নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও তাদের পাশে থাকা জরুরি।’


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো ঠিক হয়নি : চিফ হুইপ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বাংলাদেশ: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

অপু বিশ্বাসসহ তিন দেশের শিল্পী নিয়ে ‘শিকার’ শুরু

‘জোর করে কি ফলাফল খারাপ করানো যায়, জোর করে কি পাস করানো যায়’

ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ

ফেসবুকে অপছন্দের ব্যক্তি, আনফ্রেন্ড না করেও তার পোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার উপায়

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, নিহত ১৩

দেশের বাজারে আরেক দফা বাড়ল স্বর্ণের গহনার দাম, ভরি কত?

কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা দুই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলো সরকার

১০

সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপ নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের

১১

হাইকোর্টের নির্দেশনায় মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ডিএমটিসিএলের নানা পদক্ষেপ

১২