বিপিএল হবে কি হবে না, এই প্রশ্নে আপাতত ধোঁয়াশা নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল সাফ জানিয়েছেন, এই বছর বিপিএল স্থগিত। আগামী বছর থেকে নতুন করে শুরু করে বিপিএল।
নতুন বলতে, সংস্কার করে মাঠে গড়াবে বিপিএল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পুরোনো বিতর্ক ও অব্যবস্থাপনা পেছনে ফেলে নতুন কাঠামোয় ফিরতে চায় বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটার—তিন পক্ষই। এজন্য সংস্কারের প্রস্তাব সবাই মেনে নিয়েছে।
তবে বিপিএল না হওয়ায় এবছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে নিয়মিত বিপিএল খেলে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতিটা বড়। সাময়িক আর্থিক সহায়তার বদলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটারকে উপকৃত করার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
তবে বিপিএল না হওয়ার বিষয়টি জানতেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাই ভবিষ্যতে যেন বিপিএল নিয়মিত আয়োজন করা হয়, সে বিষয়ে নজরদারি করার কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে গনমাধ্যমে এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি তো আপনার কাছ থেকেই মাত্র শুনলাম (বিপিএল হবে না) তারা খেলবে না।'
তবে বিপিএল নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ক্রিকেটারদের সুখবর দিয়েছেন তামিম। ঘরোয়া ক্রিকেটে সব সংস্করণেই ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে আবার। ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি করা হয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ছেলেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। লিস্ট ‘এ’ অর্থাৎ একদিনের ম্যাচের সংস্করণে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
বিপিএল না আয়োজন করার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিসিবি। সেই ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত আসে। বিসিবি সভাপতির দাবি, ক্রিকেটাররা এই উদ্যোগে দারুণ সন্তুষ্ট।
তারপরও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বিপিএলের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে প্রতিবছরই এই আয়োজন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় বিপিএল যেহেতু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টুর্নামেন্ট আমাদের বাংলাদেশের জন্য। আপনি বলছেন বোর্ড সভাপতি কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছেন আপনাদের সামনে। আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলো প্রতি বছর হওয়া উচিত। সুতরাং এটা কেন হয়নি তা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের খেলাগুলো ধারাবাহিকভাবে হয় সেই জায়গাগুলো আমরা অবশ্যই নজরদারিতে রাখব।'
সব মিলিয়ে বিপিএল বন্ধ হওয়ার পথে নয়, বরং বড় সংস্কারের দরজায় দাঁড়িয়ে। এ বছর মাঠে না গড়ালেও আগামী বছর নতুন কাঠামোয় ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।
বিপিএলকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এবং রেভিনিউ মডেল তৈরির কাজ চলছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি. ‘আমাদের ফ্রেমওয়ার্ক পরিবর্তন করতে হবে। একটি রেভিনিউ মডেল চালু করতে হবে। একটা বড় সফল টুর্নামেন্ট করতে বছরের পর বছর পরিকল্পনা করতে হয়। আমাদের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে।’
তিনি জানান, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিদেশি বিনিয়োগ, কোনো এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করা কিংবা বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।