অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-সহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারকে সম্পূর্ণ পেপারলেস করার সময় হয়েছে। দ্রুত সেটা বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আইসিবির মাধ্যমে মূলধন বাজারে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট বা পুঁজিবাজার প্রধানত ইনস্টিটিউশনাল বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে রিটেইল-বেসড বা খুচরাভিত্তিক অবস্থা থেকে ইনস্টিটিউশনাল-বেসড বা প্রাতিষ্ঠানিকভিত্তিক বাজারে রূপান্তরে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস এবং আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
‘নো পেপার ট্রানজেকশন, নাথিং পেপার’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে লিস্টিং আবেদন, অনুমোদন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।