ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান সরকারি দল বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এই পুরো ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছরের মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন। নির্বাচনে একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
জাতীয় সংসদ বর্তমানে নিয়মিত অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১১ আগস্ট ন্যূনতম সাত দিন সময় রেখে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচন কমিশন আগেই ভোটার তালিকা ও তফসিল প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে গণনা এবং ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ওপেন ব্যালটে ভোট নেওয়া হবে। ফলে সংসদ সদস্যরা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে। ভোটদান ও গণনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম সংসদীয় ব্যবস্থায় একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।