ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতা, প্রথম তালিকায় ১২৯ জন

ছবি: সংগৃহীত।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি মাসিক ভাতা। আগামী ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই কার্যক্রম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়া খেলোয়াড়দের দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা ও ‘ক্রীড়া কার্ড’।

শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের মোট ১২৯ জন খেলোয়াড়কে এই ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের ভিত্তিতে।

তবে ভাতার পরিমাণ সম্পর্কে এখনই কিছু জানানো হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এই অঙ্ক প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করবেন এবং তা খেলোয়াড়দের জন্য আনন্দদায়ক হবে।

প্রথম তালিকায় স্থান পাওয়া খেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্চারি, বক্সিং, যোগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, সাঁতার, ভারোত্তোলন, উশু, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, নারী হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, প্যারা সুইমিং, প্যারা অ্যাথলেটিকস, নারী ফুটসাল, নারী কাবাডি, নারী ভলিবল ও পুরুষ ব্রিজ।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এশিয়ান আর্চারিতে পদকজয়ী চার খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের একাধিক সফল ক্রীড়াবিদ এই তালিকায় আছেন। এছাড়া নারী ভলিবল দলের ১৪ জন, নারী কাবাডি দলের ১৫ জন, নারী ফুটসাল দলের ১৪ জন এবং সেপাক টাকরোর নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ জন খেলোয়াড় ভাতা পাচ্ছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। প্রতি চার মাস অন্তর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

তবে আপাতত ক্রিকেটারদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, কারণ তাদের আয় তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, হকি দলসহ বাদ পড়া খেলাগুলোকে শিগগিরই এই কাঠামোর আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

‘ক্রীড়া কার্ড’-এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা হাসপাতাল, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই সাতটি ক্রীড়া ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ এবং স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার দখল হওয়া খেলার মাঠ উদ্ধারেও শিগগির অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের অগ্রাধিকার, নতুন স্থাপনা নয়- বরং শিশুদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা।

সবশেষে, আগামী এপ্রিল থেকে জেলা এবং জুন থেকে উপজেলা পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড় খোঁজার কার্যক্রম শুরু হবে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্রীড়াবিদদের মাসিক ভাতা, প্রথম তালিকায় ১২৯ জন

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দায়িত্ব নিলেন র‌্যাবের নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ

কালনী তীরে বাউলের আসর, শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মারা গেছেন

বলিউড অভিনেত্রীর পণ্য ‘ব্যাকবে’ দশগুণ বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী

পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জন্মদিনে ‘রকস্টার’ এর ট্রেন্ডি লুকে শাকিব খান

চার দিনের সফরে আজ পাবনায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

১০

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী

১১

পাবিপ্রবিতে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

১২