সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, ভ্যাকসিন বা মানবসম্পদ কোনো কিছুরই সংকট নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। বলেন, এবারের বাজেটের পর সক্ষমতা আরো বাড়ানো হবে। মে মাসের মধ্যেই হামের প্রকোপ কমে আসবে, এমনকি শূন্যের কাছাকাছি চলে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে, যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই এবং তা দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পোলিও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ‘ভুল’ দাবি করে মন্ত্রী জানান, মিরপুরের একটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের কোনো সংকট ছিল না। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “অতীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। তবে, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
হামের টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, গত ছয় বছর শিশুদের নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে তা পুনরায় শুরু করা হয়েছে। ইউনিসেফ, বিশ্ব ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান শুরু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩০টি উপজেলায় আগে টিকাদান শুরু হয়েছে, সেখানে এখন নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারে সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।