ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়ার সালেহা ইদ্রিস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশেই এক বিশাল ভাগাড়; যার উৎকট গন্ধে ৯ বছর ধরে মারাত্মকভাবে ব্যহত এখানকার শিক্ষার পরিবেশ। লেখাপড়ার গুঞ্জরণে শ্রেণিকক্ষ মুখর থাকলেও ওদের শিক্ষাজীবন রোজ বিষিয়ে ওঠে অসহ্য দুর্গন্ধে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত এখানে শাপলাকলির সৌন্দর্য ছড়াতো একটি বিল। কিন্তু সেই নির্মল জায়গাটিকে পরিণত করা হয়েছে পরিবেশ দুষণের বড় উৎসে। অনুমোদনহীন এই ভাগাড়ের পাশ দিয়ে চলাচল করাটা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর জন্য।
২০১৫ সালের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় জমিটি ছিল জলাশয়। দুই বছর পর থেকে এখানে ফেলা শুরু হয় আশুলিয়া ও সাভার এলাকার বর্জ্য।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাশেদ শিকদার নামের এই ব্যক্তি তার পৈতৃক জমিতে ৯ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন ভাগাড় বাণিজ্য। যেখানে গাড়ি প্রতি ময়লা ফেলার জন্য বিনিময়ে মাসে নেয়া হয় ৩০ হাজার টাকা। মাসে অন্তত ১০০ গাড়ি থেকে আদায় হয় ৩০ লাখ টাকা।
রাশেদের জমির পরিমাণ ৭৫ শতাংশ হলেও এর দ্বিগুণ জায়গাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাগাড় হিসেবে। তার দাবি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিদর্শন করে বর্জ্য ফেলায় বাধা দেয়নি। তবে, তার দাবিকে অসত্য বলছে পরিবেশ অদিপ্তর। শিগগিরই জায়গাটি পরির্দশন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মো ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, এখানে বর্জ্য ফেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি না। এ ধরনের বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।
জলাশয় ভরাট করে ভাগাড় বাণিজ্যের বিষয়ে আশুলিয়া ইউনয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে,কথা বলতে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী,সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, এসব ভাগাড় থেকে ছড়ানো পারি আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই ব্যর্থতার দায় ওখানকার স্থানীয় প্রশাসনও এড়িয়ে যেতে পারেন না।
দীর্ঘদিন ধরে ফেলা এই বর্জ্য ফেলার কারণে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়,ভোগান্তিতে পড়েছেন আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়ার বাসিন্দারাও। বারবার অভিযোগ করেও মিলছে না মুক্তি। তাই এলাকাবাসীর চাওয়া দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার।