গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত ইসরাইল: ট্রাম্প

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয় শর্তে রাজি হয়েছে দখলদার ইসরাইল। এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের গতকালের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিয়েছে কি না, সেটাও প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। 

সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর থাকার সময় যুদ্ধ বন্ধে (স্থায়ীভাবে) আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করব।’

তিনি আরও লেখেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তায় কাতার ও মিসরবাসী কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তারাই চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তাব দেবেন। আশা করি, হামাস চুক্তিটি গ্রহণ করবে। কারণ, এটি আর ভালো হবে না; বরং এটি শুধু আরও খারাপ হতে পারে।’

ট্রাম্প এই ঘোষণা এমন এক সময়ে দিলেন যখন আগামী সপ্তাহে তার সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ওই বৈঠকে তিনি ‘খুবই কঠোর’ অবস্থান নেবেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন নেতানিয়াহু গাজায় সংঘাতের অবসান চান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, তিনি চান। আমি মনে করি, আগামী সপ্তাহে আমরা একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’

এদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, ইসরায়েল ‘নিশ্চিতভাবেই’ যুদ্ধবিরতি চায়, তবে হামাস ‘কঠিন অবস্থান’ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে জিম্মিদের ফেরাতে আমাদের একমাত্র বিকল্প হবে আরও সামরিক চাপ প্রয়োগ করা। যুদ্ধ শেষ হবে তখনই, যখন জিম্মিরা ঘরে ফিরবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালান ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা। ইসরায়েলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ কারণে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ইসরায়েল থেকে দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নেওয়া হয়।

হামলার জবাবে ওইদিনই অবরুদ্ধ গাজায় তাণ্ডব শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এখন অবধি চলমান থাকা নির্বিচার ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৫৬ হাজার ৬৪৭ জনে মানুষ নিহত হয়েছেন।গাজায় এখনো প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তির ব্যাপারে মধ্যস্থতাকারীরা প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল বলেছে, হামাস পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাতের অবসান সম্ভব নয়। অন্যদিকে হামাস দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি করে আসছে।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ মাস কোনো ফোন ব্ল্যাকলিস্ট হবে না: ডিসি মাসুদ

যশোরে বিএনপি নেতা হত্যা: খুনিদের পালানো রুখতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির সতর্কতা

চাটমোহর প্রেসক্লাবের ৩৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

সচিব হলেন ৩ কর্মকর্তা

দেশু জুটির ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন শুভশ্রী

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা, আটক ২৭৩

বাড়ল এলপিজির দাম

ভারতে বিশ্বকাপ দল পাঠানো নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি

কাওরানবাজারে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১০

বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ, বাদ পড়লেন যারা

১১

ব্রুকলিনের ‘কুখ্যাত’ কারাগারে প্রেসিডেন্ট মাদুরো

১২