কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত।

কাতারের প্রধান গ্যাস শিল্পনগরী রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গতকাল বুধবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা জানায়, হামলার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লাগে এবং এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সব কর্মীর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় ছিল কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান রিফাইনারি; সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র।

এই ঘটনার পর কাতার সরকার সে দেশে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং এটি আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতি নির্দেশ করে।

তারা আরও অভিযোগ করেছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং নিরপেক্ষ দেশগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ম্যাখোঁ বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণ ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করা সবার যৌথ দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ রাস লাফান ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে হামলার পর কাতার সাময়িকভাবে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছিল।

দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কমপ্লেক্স বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র। এখান থেকে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয়, যা এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। মূলত আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের উপায় খুঁজতেই ওই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল।


  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তদবির করলেই ‘অপরাধী’

সামাজিকমাধ্যম না সংবাদমাধ্যম– আসল ‘বিপদ’ কোনটি

সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে পৌঁছালো ৪৩ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী

সিলেটে সড়কে ঝরলো ৮ শ্রমিকের প্রাণ

জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েও ইন্টার মিয়ামির হার

বিয়ে ভাঙা নিয়ে বাসার-তটিনীর অন্যরকম কাণ্ড

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুঃসংবাদ, নতুন করে প্লাবিত হতে পারে ৪ জেলা

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

১০

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

১১

কারাগারে গুরুতর অসুস্থ ইরানের নোবেলজয়ী নার্গিস, নেয়া হলো হাসপাতালে

১২